৭.৭ মাত্রার ভয়াবহ এক ভূমিকম্পে পর্যুদস্ত মিয়ানমার। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জান্তা সরকারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১,৬৪৪ জন। এছাড়া আহত হয়েছেন ৩,৪০৮ জন এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১৩৯ জন।
এই দুর্যোগের সময়ে মিয়ানমারের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ। শনিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির প্রেক্ষিতে জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ, ত্রাণসামগ্রী, উদ্ধার এবং মেডিকেল সহায়তা প্রদানের জন্য বিশেষ বিমানে আগামীকাল (রোববার) মিয়ানমারে যাচ্ছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর উদ্ধারকারী দল।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) সংঘটিত ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মিয়ানমারের মান্দালয় শহর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। এতে সাগাইং, মান্দালয়, নেইপিদোসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাগাইংয়ে শত বছরের পুরোনো একটি সেতু ধসে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে ভবন ও মসজিদ ধ্বংস হয়েছে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত রেডিও এবং টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাজ্য প্রশাসন পরিষদের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং শনিবার সকালে হেলিকপ্টারযোগে মান্দালয়ে পৌঁছেছেন এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এর আগে শুক্রবার তিনি আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ভূমিকম্পের পর মিয়ানমারের ৬টি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। দেশটির সামরিক সরকার আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য আবেদন করেছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে তথ্য প্রবাহে সীমাবদ্ধতা থাকায় সঠিক পরিস্থিতি নিরূপণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের এই দুর্যোগে সহানুভূতি প্রকাশ করেছে এবং বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা সহায়তা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করতে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে।
-যুগান্তর